Sunday, August 16, 2015

প্রথম প্রেম

_________________________________________________________________________________

- এই শুনছ ?
-- বলো |
- নাহ , থাক |
-- কি হয়েছে, বলো না !
- তোমাকে বলা যাবে না !
-- কেন ? আমি আবার কি করলাম যে আমাকে বলা যাবে না !
- গল্পের হিরোদের মতো আমি তোমার প্রথম প্রেম হলে বলতাম নিশ্চয়ই | আমি সবার লাস্ট | আমার লাস্ট হতে একদম ভালো লাগে না |
-- কে বললো তুমি আমার লাস্ট প্রেম ?
- লাস্ট নই ? লাস্ট কে তাহলে শুনি ?
-- কেন, আমার লাস্ট প্রেমের কথা বলিনি তোমায় আমি ? ওই যে , তোমার হাতের মটন কষা আর বিরিয়ানি |
- ঠিক তো ?
-- লাস্ট প্রেম নিয়ে কথা দিতে পারছি না | ফার্স্ট প্রেম যে তুমিই সে আমি তোমার হাতের বানানো ফিরনি টেস্ট করেই বুঝেছিলাম | 

ক্লাস বিভ্রাট

প্রত্যহ দিনের ন্যায় আজও বালকগণ শেষ সময়ে দুই-তিন ধাপ সিঁড়ি বৃহৎ বৃহৎ লম্ফ সহকারে অতিক্রম করিয়া দৌড়াইয়া অ্যাসেম্বলি হলে প্রবেশ করিয়াছে | সাধারণত লাইনের প্রথমে সবচেয়ে খাটো দিয়া চালু করিয়া পিছনের দিকে লম্বুদের দিয়া লাইন সমাপ্ত হইয়া থাকে | যদিও এই দেরীর জন্য লাইনের সেই শৌখিনতার খানিকটা হইলেও বিসর্জন হইয়া থাকে | দুই লম্বুর মাঝে এক-আধজন খাটো বালক ঢুকিয়া পড়ায় বিক্ষিপ্তভাবে sine কার্ভের সৃষ্টি করিয়া ফেলে | যাহোক প্রার্থনা শুরু হইলে পর কেহ বেসুরে চিত্কার করিয়া, কেহ বা শক্তি ব্যয় হইবার ভয়ে গানের সুরে শুধুমাত্র ওষ্ঠ নাড়াইয়ায় ক্ষান্ত থাকে |


এ ব্যাপারখানি শেষ হইলে পর যে যাহার শ্রেণীকক্ষে ফিরিয়া চলে এবং ঘন্টা বাজিবার পুর্বমুহুর্ত পর্যন্ত তীব্র গোলযোগে লিপ্ত হইয়া ওঠে | চক ভাঙ্গিয়া ছোঁড়াছুড়ি করিয়া, কেহ বা কয়েক মুহুর্তের ন্যায় যে বালক খানিকটা ঘুমাইয়া লইবে বলিয়া স্থির করিয়াছিল , তাহার চেয়ারে সজোরে পদাঘাত করিয়া তাহার সে অভিপ্রায় প্রায় ক্ষীণতম করিয়া তোলে,কেহ চক দিয়া বোর্ডে কর্কশ আওয়াজ করিয়া লোকজনকে অতিষ্ঠ করিয়া আনন্দলাভ করিতেছে | অষ্টম শ্রেণীতে মনিটরের বিশেষ কোনো ভূমিকা নাই | তাহার দায়িত্ব হইলো শুধুমাত্র ফিজিক্সবাবুর কক্ষ হইতে মুঠা মুঠা চক আনিয়া বালকদিগের খেলার উপকরণের যোগান দেওয়া, আর উপস্থিতির রেকর্ড রাখিবার খাতাখানি লইয়া আসা |


ইতিমধ্যে warning বেল বাজিয়াছে, ভূগোলবাবু আসিয়া এক চক্কর দিয়া নিজের কক্ষে ফিরিয়াছেন | তিনি আসিয়া বালকদিগকে উল্লাসে মাতোয়ারা হইতে দেখিলে প্রথমে অঙ্গভঙ্গি করিয়া তারপর সামান্য বকাবকি করিয়া চলিয়া যাইতেন | একখানি উদাহরণ দিলে বুঝিতে কিঞ্চিত সুবিধা হইবে বটে | কোলাহলে রত বালককে দেখিবামাত্র কাছে ডাকিতেন, তারপর শুধায়তেন "এটা কি করা হচ্ছিল??" ইতিমধ্যে যাহারা উনার দৃষ্টিগোচর হয় নাই , তাহারা কেহ শান্ত হইয়া নিষ্পলক আঁখি মেলিয়া চাহিয়া রহিয়াছে , যেন পুর্বমুহুর্তের ঘটনার সাক্ষী তারা কোনো অংশেই নয় | বালক মুখ নিচু করিয়া নির্বাক হইয়া দাড়াইয়া রহিলে পর ভূগোলবাবু নিজের দুই হাত তালুতে তালুতে ঘষিয়া ধুলা ঝাড়িয়া ফেলার ভঙ্গিমা করিয়া কহিলেন -- "ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানো না??" এইভাবে কিঞ্চিত ভর্ত্সনাপূর্বক উহাকে শান্ত হইয়া বসার নির্দেশ দিয়া প্রস্থান করিলেন | উনি যাইতেই কেহ আর হাসি চাপিতে পারে না |


ততক্ষণে আবার ঘন্টা বাজিয়াছে, শিক্ষকমহাশয় আসিয়াছেন | প্রথম পিরিয়ড বাংলা, বাংলাবাবুর ক্লাস | পড়ানো আরম্ভ হইলো, কেহ কেহ ক্লাস নোটস লইবার জন্য কলম কাগজ বাহির করিয়া প্রস্তুত হইয়াছে | কয়েক মিনিট অতিক্রম হইয়াছে কি হয় নাই, পাশের শ্রেণীকক্ষে অঙ্কবাবু তারস্বরে চিত্কার করিতে আরম্ভ করিলেন | আমাদের কক্ষে কয়েক মুহুর্তের জন্য পড়ানো বন্ধ হইলো | আসলে সকলে ঠাহর করিয়া উঠিতে পারি নাই যে উনি পড়াইতেছেন নাকি ক্রুদ্ধ হইয়া চিত্কার করিতেছেন | ততক্ষণে চিত্কার ক্রন্দনের রূপ ধারণ করিয়াছে | উল্টোদিকের কক্ষে ইংরাজিবাবু বিস্মিত হইয়া ফিসফিস করিয়া কহিলেন, "'Anko' has gone mad." বাংলাবাবু দরজার দিকে চাহিয়াছিলেন | দরজার ফাঁক দিয়া দেখিতে পাইলাম যে কক্ষ হইতে গোলমালের শব্দ আসিতেছিল প্রধান শিক্ষকমহাশয় সেদিকেই তীব্র গতিতে ধাবমান হইলেন | তারপর আমাদের কক্ষ হইতে কেবলমাত্র চরম প্রহার আর "না মহারাজ না" এই আওয়াজই কর্ণগোচর হইতে লাগিল | কয়েক মুহূর্ত পর দুইখানি আওয়াজই স্তব্ধ হইলো | তারপর যাহার যেমন ক্লাস চলিতেছিল, চলিতে লাগিল | যদিও সকলেই তখন আসল ঘটনা জানিবার জন্য উদগ্রীব হইয়া বসিয়া আছে | মন আর পড়াশোনায় পড়িয়া নাই | ক্লাস শেষ হইবামাত্র চারিধার হইতে বালকেরা দঙ্গল বাঁধিয়া সেই কক্ষের সম্মুখে আসিয়া জড়ো হইলো | ইহার পর ঘটনার আসল হেতু জানা যাইল |



অঙ্কবাবুর প্রথম পিরিয়ডে ক্লাস ছিল | নীলাম্বর নামক বালকটি ঘুমাইবার চেষ্টা করিতেছিল | শিক্ষকমহাশয় ক্লাসে প্রবেশ করিবামাত্র শঙ্খদীপ নীলাম্বরকে "নীলু"(আদর করিয়া এই নামেই বালকগণ উহাকে সম্বোধন করিত) বলিয়া ডাকিয়া উঠিয়াছিল | কিন্তু শিক্ষকমহাশয়ের দ্বিতীয় ইন্দ্রিয়ের কিঞ্চিত গোলযোগের কারণে "ন"-"ল" সব একাকার হইয়া এবং উহাতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোনো বিধি-বিচার না মানিয়াই খানিক বিকৃত হইয়া অশ্লীল শব্দের ন্যায় শুনাইয়াছিল | কর্ণপটহের এ অসভ্য আচরণের বিন্দুমাত্র বিচার-বিশ্লেষণ না করিয়াই ক্রোধে অন্ধ হইয়া শঙ্খদীপকে বেদম প্রহার আরম্ভ করিলেন | বালকের কপাল মন্দ , প্রধান শিক্ষকমহাশয় ওই সময়েই ওইখান হইতে ফিরিতেছিলেন | তীব্র গোলযোগ তাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করায় ছুটিয়া আসিয়া তিনি সাত-পাঁচ না ভাবিয়া বালককে নিজের জিম্মায় লইয়া তীব্রতর প্রহারে রত হইলেন | "না মহারাজ না"-ও সমান তালে পাল্লা দিয়া চালু হইলো | এতক্ষণ পর্যন্ত চিত্কার তীব্রতর ছিল | এখন আঘাতের শব্দ তীব্রতর হইয়াছে | প্রধান শিক্ষকমহাশয়ের উত্তরীয় ঘাড় হইতে মেঝেতে পড়িয়া যাইতেছিল, উনি হাতটিকে পিছনে লইয়া গিয়া এক অদ্ভুত ভঙ্গিমায় তাহাকে ধরিয়া পুনরায় কাঁধে জড়াইলেন, কিন্তু তাতে প্রহার থামে নাই | তাঁহার এই বিচিত্র stunt দেখিয়া সকলে ভীতিপুর্বক অভিভূত হইয়াছিল | যাহা হউক, এ ঘটনাখানি বালকের চিরকাল স্মরণে থাকিবে | তবে উক্ত ডাকনামে আর কোনো বালক ক্লাসে নীলাম্বরকে ডাকার সাহস দেখায় নাই |

পরোটা-উবাচ

রাবণ বাবাজী ঋষি-মুনির ভেক ধরে এলেন সীতা-হরণে |

- কই হে, কেউ কি আছেন ?
- 
অত চেচামেচির কি আছে বাপু, এট্টু সবুর কর ! দেওর এলে নাকি ?
বাইরে এসে মুনিকে দেখে সীতা একটু নরম সুরে বললেন "বলুন বাবা, কি সেবা করতে পারি আপনার ?"
- (
নরম সুরে) আমায় দুটি ভিক্ষা দে মা |
- 
গরম পরোটা বানিয়েচি | সেই-ই দুটি ভোজন করুন বাবা |
- 
পরোটা ? সে আবার কি খাদ্য | আমি বরং দুটি ফলাহার করেই তৃপ্ত হই |
- 
সে কি বাবা ! দুটি খেয়ে দেখুন , ভালো লাগবে, কোনো সাইড এফেক্ট নেই | আর তাছাড়াও আপনি তো জানেনই "খালি পেতে জল, ভরা পেটে ফল |" আপনি বরং এট্টু পরোটা খেয়ে ফল খাবেন 'খন |
পরোটা এলো | মুনি খেয়ে বললেন "কি অপূর্ব !! তুমি নিজে হাতে বানিয়েচ মা ?"
- 
হ্যাঁ বাবা | আর একটা দি ?

হাতে সময় কম থাকায় খানদুয়েক পরোটা উদরস্থ করে একখানা ঢেকুর তুলে ভাবলেন "খাসা জিনিস তো ! আমার দেশে এরম জিনিস আগে তো কই খাইনি | যাক একে নিয়ে পালালে তো এক ঢিলে দুই পাখি | রামের ওপর প্রতিশোধও হবে , আবার যখন ইচ্ছে পরোটা খাওয়াও হবে | সীতা ফল নিয়ে রাবণকে দিতে এলে পর "Mauka" বুঝে এক টানে সীতা কে টেনে নিয়ে পুষ্পকে চড়ে চম্পট | ফলগুলো ছড়িয়ে পড়ে রইলো এদিকে ওদিকে | চুলোয় যাক ফল |


"পরোটা" হলো বাঙালিয়ানার ব্রেকফাস্টের থালায় হাত কচলে জিভে জল, আর টিফিন কৌটোয় স্বস্তির নিশ্বাস | কতো লোক যে পরোটা বেচে খাচ্ছে, এ এক কুটিরশিল্প মশাই | হাসান-হোসেন যদি পরোটার স্বাদ পেতেন মৃত্যুর আগে জল না চেয়ে পরোটা চাইতেন | এ হলো গিয়ে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য | ওই যেমন তাজমহল শত কোটি ভোট পেয়ে পোথম আশ্চর্যে স্থান পেয়ে গেল, খাবারের ভোট হলে নিচ্ছিত জয় হতো পরোটার, তাও আবার খুব বড় ব্যবধানে | কোথায় ধোসা , কোথায় ইডলি , কোথায় Maggi !! কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী যত মঠ তত পন্থা এই পরোটা বানানোর | রবীন্দ্রনাথ ডাইরেক্টলি পরোটার গান বা কবিতা না লিখে থাকতে পারেন, কিন্তু বহু আবেগ প্রকাশ করেছেন | গীতবিতান হাতড়ে পাবেন না মশাই | অন্তর থেকে অনুভব করতে হবে | ওই যে "তোমায় নতুন করে পাবো বলে হারাই সারাক্ষণ.." - ভেবে দেখুন দেখি , পরোটা ছাড়া কিছু হতেই পারে না | গোটা ভারত ঘুরে কত স্বাদের পরোটাই না খেয়েছেন |এই যেমন ধরুন , পরোটার পেটে আলু, পনির, ডাল যা খুশি ইচ্ছেমতো ঠুসে দিন, পাশবালিশের মতো বানিয়ে নিন খেতি নেই, কিন্তু বাটারে একবার জলকাচা মতো করে কেচে নেয়াটা ম্যান্ডেটোরি - এ হলো পাঞ্জাবি পন্থা | অবশ্য এ ব্যাপারটার কপিরাইট কিন্তু বাঙালিদের | আসল ব্যাপারটা হলো লেড়ো বিস্কুটকে গলা ধরে চায়ে ডুবিয়ে চা খাইয়ে সেই লেড়োকে খান , এতে চা খাওয়াও হলো, লেড়ো সত্কার ও হলো | ব্যাস, টুকে মেরে দিল মশাই , ধরা পড়ার ভয়ে পরোটায় এপলাই করে দিলে |


যাক গে, পরোটার বংশ কাহিনীও একটু শুনে রাখুন | দুটো কচি ভাই আছে - রুটি আর লুচি | বড় ভাই পরোটা , দেখতেও নরম, মনের ভেতরটা একেবারে নারকোলের ফুলটা | ভাইকে নিয়ে একদম পার্মানেন্টলি ঘাঁটি গেড়েছে নরেন্দ্রপুরে | এবার জুনিয়রে ফোকাস করি এট্টু | বিদ্বান সর্বত্র পুজ্যতে - পরোটা হলো বিদ্বান | আর রুটি লুচির প্রি-ফিক্সে নরেন্দ্রপুর জুড়ে দিন, চেহারাই পাল্টে যাবে | নরম মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরী করা আর নরেন্দ্রপুরে ময়দা মেখে রুটি তৈরী , না প্রসেস না, ফলাফলটা একই | একবার স্টুডেন্ট vs. টিচার টাগ অফ ওয়ার চলাকালীন উত্তেজনার চরমসীমায় পৌঁছে দড়িটা গেল ছিঁড়ে | কি হবে, কি হবে !! সবার মাথায় হাত | ছেলেদের মাঝখান থেকে প্রস্তাব এলো , জুনিয়র সেকশনে বলুন দড়ির মত লেচি বানিয়ে রুটির আদলে সেঁকে দিতে | সে দড়ি ছিড়বে না - "শ্রী দক্ষিণাদিন সাধু ওরফে ভৃগু মহারাজের বশীকরণ মন্ত্র যদি গ্যারান্টেড হয়, তাহলে এটা হচ্ছে ডবল গ্যারান্টেড | লুচি সে তো আর এক তান্ডব | ছুঁড়ে দেওয়ালে মারলেই ভেঙ্গে চৌচির | সবাই আদর করে "নুচি" ডাকলে কি হবে , Marie বিস্কুট ভর্তি ট্রে-তে দিন দুখানা মিশিয়ে , কার সাধ্যি বিস্কুট আর নুচি আলাদা করে | সব এক, সাইজ-শেপ আর মুখে দিলেই মুচ মুচ | ডাল-তরকারী চুলোয় যাক |


কান্ডটা হলো পরোটা নিয়েই | ধুপের গন্ধ ছাড়িয়ে প্রতি মঙ্গলবার জুনিয়র সেকশন পরোটার গন্ধে ম-ম নয়, প-প করত | ছেলেরা সপ্তাহে তিনটে জিনিসের অপেক্ষায় থাকত - রোববার, সিনেমা আর 'পরোটা' | আসল জাদুবাদের সাধুবাদ যদিও পরোটার চাখনাকেই দেওয়া উচিত | তেঁতুলের গা ভেজানো জল দিয়ে সেই আলুর তরকারী বানানো হতো , থুড়ি হয়, সাথে গোলমরিচ গুঁড়ো মেশানো | সে তরকারির জুড়ি নেই | জাপানের টিউব রেলে, আইফেল টাওয়ারে গবা আছেন, আর সকালে ব্রেকফাস্টে চিনি বা আলুর দম দিয়ে পরোটা চিবোতে গিয়ে আছে সেই আলুর তরকারির আক্ষেপ | বড় ছুটির কোনো একটার আগে শেষ শনিবারের ডিনারে থাকত পরোটা মাংস | সকাল থেকে উপোস , রাতে সবাই সবাইকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিত "কে কতগুলো খেতে পারে !" তপনদা অবশ্য অনেককে হারিয়ে দিতেন |


আমাদের এক "বুরদা" ছিলেন, সম্রাটদা বলে ডাকতেম | এক্কেবারে গন্ধে গন্ধে হাজির বলতে যা বোঝায় , সেরকম মানুষ ছিলেন | "ছিলেন" কেন বলছি সেটা পরে বুঝতে পারবেন | স্টাডি হলে একজন স্যার বা "বুরদা"(বড় দাদা) থাকাটা আবশ্যক ছিল | স্টাডি হলে গার্ড দেওয়ার নামে পরোটা খেতে আসাটা তাঁর আবশ্যক ছিল , সে বৃষ্টি নামুক কি হাড়কাঁপানো শীতের দিন হোক | তা সেদিন তেঁতুল না থাকায় পরোটা আলুর দম হয়নি | তাই ব্রেকফাস্টে রুটি-তরকা | নিয়মমাফিক স্টাডি হল শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগেই বেরিয়ে গিয়ে ঠোঁট চাটতে চাটতে সোজা ডাইনিং হল | পরোটায় পাপ, পাপে চাপ | যা হওয়ার তাই হলো | সম্রাট হয়ে গেলেন অভিমন্যু | চক্রব্যুহে ঢুকে পড়লেন, পালাবার পথের কথা ভাবার আগেই ভবনের মহারাজ "কী হে, আরে এসো এসো" বলে আদর আপ্যায়ণ করে ডেকে খেতে বসালেন |
- আজ পরোটা হয়নি কিন্তু, যা হয়েছে একটু খেয়ে যাও |
এহে , কি ভুলটাই না হয়েছে ! দুটো রুটি - তরকা নাহয় ঠিক ছিল , কিন্তু পরোটা দুটোর জাগায় তিনখান, আর রুটি দুখান খাব বললেই হলো ! মহারাজ "আরে এইটুকু খাবে নাকি, এখনি তো খাওয়ার সময়" বলে আর একখান রুটি চাপিয়ে দিলেন | বুরদার দুপাটি দাঁত রুটি নিয়ে টাগ অফ ওয়ার খেলছে , আমরা নীরব দর্শক | মনে মনে আমরা তখন খুশিতে ডগমগ | এক্সট্রা পরোটা দিতে দেখলে যতখানি কষ্ট হত, আজ আনন্দটা ১৩ লক্ষ গুণ বেড়ে গিয়ে মুখে হাজার ওয়াটের শয়তানি হাসি ফুটে উঠলো | পরের মঙ্গলবার থেকে তিনটে করে পরোটা বেঁচে যেত | এই হলো "ছিলেন" এর কারণ |
আমরা পরোটা বলতে শুধু সুন্দর-ই বুঝি , আর সম্রাটদা বুঝেছিলেন সুন্দর নয়, ভয়ঙ্কর সুন্দর |


বিশেষ খবর : নরেন্দ্রপুর রিট্রিটে ব্রেকফাস্টে পরোটা-গোলমরিচ দেওয়া আলুর দম | একদম মিস করবেন না | পারলে ঠাকুরদার থেকে হাতে ধরে শিখে নিন এই রেসিপি, কাউকে ইমপ্রেস করতে হলে এর জুড়ি নেই |
বস হোক বা বউ
কিম্বা অন্য কেউ |