ইউরেশিয়ান প্লেটে কি জাদু আছে যে ভারতীয় প্লেট আসতে আসতে সেদিকে এগোচ্ছে তা জানি না , কিন্তু আমার বাড়ির প্লেটের মহিমা এতই সুন্দর যে আমার পেটটা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বললে কম বলা হবে , ধেয়ে চলেছে | আমার এক ডাক্তার বন্ধু বললে জামা-কাপড় তো ফ্রি সাইজ ছাড়িয়ে যাচ্ছে | তবে চিন্তা নেই, আমার কাছে টোটকা আছে, মেনে চললে দারুন কাজ দেবে | রোজ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে হালকা গরম জলে খানিক লেবু চিপে দু চার ফোঁটা ডাবর হনি ফেলে দিয়ে খেয়ে ফেলবি | কিছুদিন পর দেখবি সব মেদ ঝরে যাবে |
চিকিচ্ছা শুরু করে দিলাম | শুভ কাজে দেরী কেন ! কিন্তু ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলে ঘড়িতে ১০টা দেখলে আর কিছুই মনমতো হয়ে ওঠে না ! তবু ডাক্তার বন্ধুর ফর্মূলা অনুযায়ী নাক টিপে রোজ সকালে দু ঢোক করে গিলতে লাগলাম | তারপর চোখ কান বুঝে অনুভব করার চেষ্টা করি মেদ সত্যিই গলছে কিনা | ব্রেকফাস্ট মিস হতে লাগলো | খিদেতে ক্লাসের পড়া মাথায় ঢোকে, কিন্তু বেশীক্ষণ টেকে না | তার সমাধা হলো | ক্লাসে বসে ধুলিসাত করা যাবে ভেবে ছোট ছোট ক'প্যাকেট বিস্কুট কিনে আনলাম | আজ তাড়াতাড়িতে কোনরকমে একখানা প্যাকেট তুলে নিয়েই ক্লাসে দৌড় | খানিক পরে বুদ্ধির সেলিব্রেশন করতে গিয়ে ব্যাগ হাতড়ে দেখি - চা দিয়ে খাব বলে যে লেড়োর প্যাকেটটা কিনেছিলাম, ভুল করে সেইখানা এনেচি | ক্লাসের পেছন থেকে স্যারের আওয়াজ শুনতে না পেতে পারি, কিন্তু বিস্কুটে একখানা কামড় পড়লে লেড়োর ৩০ডেসিবেলের চিত্কার সক্কলের কর্ণগোচর হবেই হবে |
এ.সি. ক্লাসঘরে বসে বেশ রাগ হতে লাগলো | গ্লোবাল ওয়ার্মিং কে ধরে পেটাতে ইচ্ছে করছিল - ব্যাটা বরফ গলানো শিখে এলো, মেদ গলানোটা শিখে আসতে পারল না !!!
